বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে ব্রাজিল। হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচে জোড়া গোল করে সেলেসাওদের জয়ের নায়ক মাতেউস কুনিয়া। তবে এমন দাপুটে জয়ের দিনেও ব্রাজিল শিবিরে আনন্দের চেয়ে বিষাদের সুরটাই বেশি ভারী।
কারণ, দল জিতেছে ঠিকই, কিন্তু হারিয়ে ফেলেছে তাদের অন্যতম সেরা অস্ত্র রাফিনিয়াকে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বার্সেলোনার এই অভিজ্ঞ উইঙ্গারকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরিয়েছিলেন রাফিনিয়া। ১২তম মিনিটে বল জালে জড়িয়ে উদযাপনেও মেতেছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কাটাকাতায় বাতিল হয় সেই গোল। তবে সেই আক্ষেপের চেয়েও বড় ধাক্কাটা আসে ম্যাচের ৪০তম মিনিটে। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
এরপর আর খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। চিকিৎসকদের সহায়তায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই তারকা।
প্রাথমিক সূত্র ও স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যমতে, রাফিনিয়ার এই চোট নতুন কিছু নয়। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ ক্লাব মৌসুমের শেষভাগে যে পুরোনো চোট তাকে ভুগিয়েছিল, এবারও ঠিক একই জায়গায় আঘাত পেয়েছেন তিনি। ব্রাজিলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক্সক্লুসিভ ফুটেজেও তার পুরোনো চোটের জায়গায় অস্বস্তির চিত্র ফুটে উঠেছে।
এর আগে গত মার্চেও জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় একই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন রাফিনিয়া। সেবার প্রায় দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। যার খেসারত দিতে হয়েছিল তার ক্লাব বার্সেলোনাকেও।
অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দুটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আবারও সেই পুরোনো চোট ফিরে আসায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ব্রাজিলের টিম ম্যানেজমেন্টের।
রাফিনিয়ার এই ছিটকে যাওয়া সেলেসাওদের বিশ্বকাপ মিশনকে কতটা বাধাগ্রস্ত করবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি। শিষ্যের চোট নিয়ে নীরবতা ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিশ্বকাপে রাফিনিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পরবর্তী মেডিকেল রিপোর্টের ওপর।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আগামীকাল রাফিনিয়ার চোটের জায়গায় বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা (স্ক্যান) করা হবে। এই মুহূর্তে আসলে চোটের গভীরতা কতটা, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষা করতেই হবে।’