সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের রিয়েল সেক্টরে প্রোডাকশন সাংঘাতিকভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে মারাত্মক বন্ধ্যাত্ব বিরাজ করছে। নির্বাচনে কারচুপি’র মাধ্যমে প্রায় ১৬ বছর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে থাকা আওয়ামী লীগ সরকার পাবলিক সেক্টরে উন্নয়নে যতটা মনোযোগি ছিল প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ততটাই উদাসীন ছিল। পাবলিক সেক্টরে যে উন্নয়ন হয় দৃশ্যমান এবং এতে দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের সুযোগ বেশি থাকে। তাই গণবিরোধী সরকারগুলো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নামে পাবলিক সেক্টরকেই সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। আর তাদের উন্নয়ন কৌশলে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান এবং জনতুষ্টিমূলক। আমাদের এ অঞ্চলে অবকাঠামোগত খাতে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন সার্ধিত হয়েছে আইয়ুব খান, এইচএম এরশাদ এবং শেখ হাসিনা সরকার আমলে। এ তিনটি সরকারই ছিল গণবিরোধী এবং দুর্নীতি পরায়ন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে পাবলিক সেক্টরে এমন সব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা জনকল্যাণে যেগুলোর তেমন কোন আবেদন ছিল না। এসব উন্নয়ন কাজে যে অর্থ ব্যয় হবার কথা তার চেয়ে ৫/৭ গুন বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সব সময়ই ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল। এমন অবস্থায় প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগকারিগণ নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করে। স্থানীয় এবং বিদেশি উভয় ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ বন্ধ্যাত্ব বিরাজ করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলেও পরিস্থিতির কোন ইতিবাচক উন্নতি হয়নি। সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক, বাংলাদেশের জিডিপি-প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট রেশিও দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা বিগত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কোন বছরই প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্টের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে জিডিপি-প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ২৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জিত হয়নি।
এমনি এক বাস্তবতায় নতুন সরকার প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট বৃদ্ধির জন্য এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা হচ্ছে ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি’র আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা। বর্তমানে দেশের জিডিপি’র আকার হচ্ছে ৪শ’৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় অর্জন করতে হলে আগামী ৮বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণেরও বেশি সম্প্রসারিত করতে হবে। এ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রতি বছর ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপি’র আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্ন্নীত করতে হলে বাংলাদেশের জিডিপি-প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট রেশিও অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে,যা অসম্ভব বলেই মনে হয়। নতুন সরকার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্ধ ও আংশিকভাবে চালু শিল্পকারখানা পূর্ণোদ্যমে চালু করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
এ অবস্থায় গত ২৩ মে চলমান দেশীয়ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যে বন্ধ ও সঙ্কটগ্রস্ত শিল্পগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা, বেসরকারি খাতের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা ও সার্বিকভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এ প্যাকেজের ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার মাধ্যমে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা সরকারি গ্যারান্টির অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করা হবে। এরমধ্যে বন্ধ ও সঙ্কটগ্রস্ত শিল্পগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। তহবিল সঙ্কটের কারণে যেসব শিল্প-কারখানা নানা কারণে বন্ধ হয়ে আছে অথবা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছে না তাদের জন্য মূলত এ ঋণ দেয়া হবে। উল্লেখ্য, শিল্পোদ্যোক্তাদের একটি সংগঠন দাবি করেছে, বিগত কয়েক বছরে রাজনৈতিক সংঘাত ও জাতীয়-অন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার কারণে দেশের অন্তÍত ১২শ’ শিল্প-কারখানা সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিশেষ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, একটি বন্ধ কোম্পানি চালু করার জন্য সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণদান করা হবে। গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণের সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। সিডিউল ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব উৎস থেকে এই ঋণদান করবে। পরবর্তীতে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ হারে সুদ চার্জ করবে। অর্থাৎ সিডিউল ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে প্রাপ্ত অর্থ তিন শতাংশ মার্জিন রেখে ৭ শতাংশে সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণদান করবে। গ্রাহকগণ ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। অর্থাৎ ঋণ গ্রহণের পর ৬ মাস পর্যন্ত তাদের কোন কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। বর্তমানে উন্মুক্ত বাজারে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ। তার অর্থ হচ্ছে বিশেষ ফান্ডের আওতায় একজন উদ্যোক্তা প্রচলিত সুদ হারে চেয়ে অর্ধেক সুদে ঋণ পাবেন।
এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাক অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ একবছর। তবে ঋণের ব্যবহার নিরিখে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে। এ তহবিল থেকে ঋণদানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্বেও মূলধনের অভাবে প্রকল্প পরিপূর্ণভাবে চালু করতে পারছেন না তাদের সহায়তা করা। যেসব প্রকল্প রপ্তানিমুখি এবং শ্রমঘন সেই সব প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়া হবে। কোন দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানকে ইজারা নিতে চায় তাহলে তারাও এ ফান্ড থেকে ঋণ পেতে পারবে। ঋণগ্রহীতাদের অবশ্যই ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) থেকে প্রত্যয়ন পত্র সংগ্রহ করতে হবে যে তার প্রতিষ্ঠানটি ঋণ খেলাপি নয়। একই সঙ্গে ঋণের জন্য আবেদনকারি উদ্যোক্তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি অর্থ পাচার বা অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত নন অথবা অতীতে যুক্ত ছিলেন না। ঋণের টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ৪ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা বা মজুরি পরিশোধ করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ এবং আংশিকভাবে চালু শিল্প প্রকল্প পরিপূর্ণভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমাদের অবশ্যই নতুন নতুন নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে রিয়েল সেক্টরে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তবে তার পাশাপাশি যেস প্রকল্প বন্ধ হয়ে আছে সেগুলো চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ আরো বেশি জরুরি। কারণ নব প্রতিষ্ঠিত একটি শিল্প থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন পেতে অনেক দিন সময় লাগে। কিন্তু রুগ্ন ও বন্ধ হয়ে থাকা শিল্পকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে নিয়ে যওয়া ততটা সময় সাপেক্ষ নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যন্ত যৌক্তিক কিন্তু সে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে সামান্য ভুল বা অসতর্কতার জন্য। বাংলাদেশে রুগ্ন শিল্প পুনর্বাসনের উদ্যোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৯৩-১৯৯৪ সালে একবার এধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। তৎকালীন বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আকমল হোসেনের নেতৃত্বে রুগ্ন শিল্প পুনর্বাসনের জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে রুগ্ন শিল্প পুনর্বাসনের নীতিমালা এবং কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। রুগ্ন শিল্পের উদ্যোক্তাদের নানা ধরনের সুবিধা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে উদ্যোগ মোটেও সফল হয়নি। রুগ্ন শিল্প পুনর্বাসনের সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্চা গিয়েছিল। বর্তমান পর্যায়ে নতুন সরকার রুগ্ন শিল্প পুনর্বাসনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা না হলে শুধু যে ব্যর্থ হবে তাই নয় ব্যাংকিং খাত মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে এসে দাঁড়াতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এর সঙ্গে আলাপ হলে তিনি বলেন, বিশেষ তহবিল থেকে ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি দিক বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রশ্ন হলো, এ তহবিল থেকে কাদের ঋণদান করা হবে? ঢালাওভাবে ঋণ দানের কোন সুযোগ নেই। প্রতিটি প্রকল্পকে কেস-টু-কেস যাচাই করে উপযুক্ততা মোতাবেক ঋণ দান করতে হবে। যেসব প্রকল্প দক্ষ ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে কিন্তু চলতি মূলধনের অভাবে লাভজনকতা অর্জন করতে পারছে না অথবা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না এমন প্রকল্পগুলোকে ঋণদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিছু কিছু প্রকল্প আছে যেগুলো ব্যবস্থাপনা অদক্ষতা বা পারিবারিক দ্বন্দের কারণে বন্ধ হয়ে আছে অথবা অপিটিমাম লেভেলে উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে পারছে না তাদের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান না করে নতুনভাবে ঋণদান করা হলে কোন লাভ হবে না। এতে শুধু অর্থের অপচয় হবে মাত্র। ঋণদানের ক্ষেত্রে এমন সব প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে যারা চলতি মূলধন পেলেই তাদের উৎপাদন কার্যক্রম কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে।
বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রোডাক্টিভ সেক্টরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এমন সব প্রকল্প বাছাই করতে হবে যেখানে ঋণদান করা হলে বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ ঋণদানের ক্ষেত্রে শ্রমঘন শিল্প প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যেমন ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য ঋণদানের চেয়ে উৎপাদনশীল শিল্প-কারখানার জন্য ঋণদান করা হলে তা বেশি যৌক্তিক হবে। একই এলাকায় যাতে শিল্পের স্থানীয়করণ না হয় তা বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ দানের ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলা-উপজেলাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এছাড়া এমন প্রকল্পে ঋণদান করতে হবে যা রপ্তানি নির্ভর। বিশেষ তহবিলের ঋণ এমনভাবে বিতরণ করা যাবে না যাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেয়। বৃহৎ শিল্পে ঋণদানের ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়া এবং বাজারে শেয়ার ছাড়ার শর্তারোপ করা যেতে পারে। নতুন ঋণদান কার্যক্রম শেয়ারবাজার চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে যে ঋণ প্রদান করবে তাতে তাদের খুব একটা অসুবিধা হবে না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যাপ্ত পরিমাণ ফান্ড আছে। কিন্তু অর্থ যোগাড়ের ক্ষেত্রে সিডিউল ব্যাংকগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যায় পড়তে পারে।
বলা হয়েছে, ঋণ খেলাপিরা উদ্যোক্তাগণ এ বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ পাবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) যারা ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত নেই তারাই এই ঋণ পেতে পারবে। প্রশ্ন হলো, যারা ঋণ হিসাব পুনর্গঠন করিয়ে নিয়েছেন অথবা এক বা দু’শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণ করিয়ে নিয়েছেন তারা তো বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি’তে ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত নেই। তাদের ক্ষেত্রে কী হবে? গত অক্টোবর মাসে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ হিসাব যারা পুনঃতফসিলিকরণ করিয়ে নিয়েছেন তারা কি এ বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ পাবার যোগ্য বিবেচিত হবেন? যারা ইচ্ছাকৃত এবং পরীক্ষিত ঋণ খেলাপি তারা অত্যন্ত শক্তিশালি। তারা যে কোন অসাধ্য সাধন করতে পারেন। অক্টোবর মাসে দেয়া বিশেষ সুবিধার আওতায় খেলাপি ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণ করিয়ে নিয়ে অন্তত ৩৯ জন বৃহৎ ঋণ খেলাপি সংসদ সদস্য হয়েছেন।
যারা বিভিন্নভাবে তাদের খেলাপি ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণ করিয়ে নিয়ে ঋণ খেলাপির দায়মুক্ত হয়েছেন তাদের যদি বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ পাবার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা না হয় তাহলে রুগ্ন শিল্প স্বাভাবিকীকরণের এ মহতী উদ্যোগ ব্যর্থ হতে বাধ্য। কাজেই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা একান্ত প্রয়োজন। সরকারের এই মহতী উদ্যোগ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে দেশের অর্থনীতিতে তার মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলবে। কাজেই এখনই এ ব্যাপারে সাবধান হওয়া প্রয়োজন।
লেখক : সাবেক ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিষয়ক লেখক।