আজ ১০ জুন, বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি’ নামে খ্যাত ফররুখ আহমদের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী। ১৯১৮ সালের আজকের এই দিনে তিনি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
বাংলা সাহিত্যে ইসলামী আদর্শের পুনর্জাগরণ, ঐতিহ্য সচেতনতা এবং অনন্য শব্দচয়ন ও প্রকরণকৌশলের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান শক্তিমান কবি সৈয়দ ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা সৈয়দ হাতেম আলী (পুলিশ ইন্সপেক্টর) এবং মা বেগম রওশন আখতার। তিনি খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৩৭) এবং কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ (১৯৩৯) পাস করেন। পরবর্তীতে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স শুরু করলেও তা অসমাপ্ত থাকে। কিন্তু তাঁর সাহিত্য-সাধনায় ভাটা পড়েনি। আরবি ও ফারসি শব্দের সার্থক প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি অধঃপতিত মুসলিম সমাজের জাগরণের গান গেয়েছেন। তিনি একাধারে গীতি-কবিতা, সনেট, মহাকাব্য, ব্যঙ্গ-কবিতা এবং অসাধারণ সব শিশুতোষ ছড়া-কবিতা লিখেছেন।
উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
কাব্যগ্রন্থ: সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪), সিরাজাম মুনিরা, মুহূর্তের কবিতা, হাতেমতায়ী।
বিখ্যাত কবিতা: পাঞ্জেরি, সিন্দবাদ, সাত সাগরের মাঝি, লাশ (১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষের ওপর লেখা)।
শিশুতোষ ছড়া: ঝুমকো জবা, বৃষ্টির ছড়া।
কর্মজীবন ও পুরস্কার
জীবন: দীর্ঘ সময় ঢাকা বেতারে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ছোটদের খেলাঘর’ পরিচালনা করতেন।
স্বীকৃতি: বাংলা সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬০), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার এবং মরণোত্তর একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।
১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর এই মহান কবি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
তার এই জন্মদিনে তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিসমূহকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।