ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিস্কৃত সাবেক কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে অবশেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে আদালতে তোলা এবং কারাগারে প্রেরণের পুরো প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

‎মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা পুলিশ ও ডিবির কড়া পাহারায় জিসানকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার মাথায় হেলমেট ও পরনে পুলিশ ভেস্ট ছিল। আদালতের কার্যক্রম শেষে দ্রুত তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে কারাগারে পাঠানো হয়।

‎এ ঘটনায় জিসানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, আদালত ওকালতনামা চাইলেও পুলিশ হেফাজতে থাকা জিসানের কাছ থেকে ওকালতনামা নেওয়ার সুযোগ তাদের দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কারা হাসপাতালে রাখার আবেদন করেছি। কিন্তু ওকালতনামা নেওয়ার জন্য তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে ডিবি ও জেলা পুলিশ সেই সুযোগ দেয়নি। পরে তড়িঘড়ি করে তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।”

‎আইনজীবীর দাবি, একজন আসামির সঙ্গে তার আইনজীবীর সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া এবং দ্রুত আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করানো পুরো বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, “এতেই বোঝা যায় তারা কোনো কিছু আড়াল করতে চায় কি না, সে প্রশ্ন জনমনে দেখা দিয়েছে।”

‎উল্লেখ্য, গত ১১ জুন দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর ১২ জুন রাতে লাকসাম এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধারের দাবি করে তার পরিবার। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

‎অন্যদিকে জেলা পুলিশের দাবি, এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলার তদন্তে জিসানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে শুরু থেকেই ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ দাবি করে আসছেন, জিসান নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় তার পরিবার ও সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি।

‎জিসানকে কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে মামলাটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করলেও তাকে ঘিরে উত্থাপিত নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক এখনো কাটেনি।