বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, বৈষম্য বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশ বৈষম্যের বোঝা বহন করছে। এ পরিস্থিতি রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, "যে লক্ষ্য নিয়ে আবু সাঈদ জীবন দিয়েছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি খুব বেশি হয়নি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে মাত্র ছয় মাস আগে। আমরা আশা করি, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক নেতৃত্ব আন্তরিকভাবে কাজ করবে এবং কেউ সংস্কারের পথ থেকে সরে যাবে না।"

তিনি বলেন, "বর্তমানে নানা কারণে মানুষের মধ্যে কিছুটা হতাশা কাজ করছে। আবু সাঈদরা যে সংস্কারের স্বপ্ন ধারণ করেছিলেন এবং যে লক্ষাধিক ছাত্র, তরুণ, যুবক ও শ্রমিক সেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সেই প্রত্যাশার জায়গায় আমরা এখনও পুরোপুরি পৌঁছাতে পারিনি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যাবে না। তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়ে নেবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা মনে করি, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা কোনো শক্তির কাছে সংস্কার প্রক্রিয়া আটকে থাকবে না। আজ হোক কিংবা কাল, প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে, ইনশাআল্লাহ। দেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের তরুণ সমাজ, যুবসমাজ ও শ্রমিকসমাজ সচেতন রয়েছে এবং তারা প্রত্যাশিত বাংলাদেশের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।"

আবু সাঈদের কবর জিয়ারত প্রসঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, "আবু সাঈদের কবর জিয়ারত আমাদের নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জোগায়। জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো আবারও সামনে ভেসে ওঠে। তাঁর আত্মত্যাগ শুধু বাংলাদেশকেই নয়, সারা বিশ্বের মানুষকেও নাড়া দিয়েছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পেটোয়া বাহিনীর সামনে তিনি হাসিমুখে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। জাতির স্বার্থে একজন তরুণ এভাবে জীবন দিতে পারেন—আবু সাঈদকে না দেখলে তা কল্পনাও করা যেত না। আমরা আশা করি, দেশের কল্যাণে ভবিষ্যতেও আবু সাঈদের মতো সাহসী তরুণরা অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।"

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, সহ-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. জিয়াউল হক, রংপুর অঞ্চল সহকারী পরিচালক অধ্যাপক আবুল হাশেম বাদল, রংপুর মহানগরীর সভাপতি এডভোকেট কাউছার আলী, রংপুর জেলা সভাপতি বেলাল আবেদিনসহ ফেডারেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।