জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ অধিবেশন। সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া এমন বক্তব্যকে অমার্জনীয় অপরাধ ও বর্ণবাদী আচরণ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সংসদে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এমপি মনিরুল বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে কটাক্ষ এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্যকে ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ ও ‘বর্ণবাদী আচরণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাহিদ।

তিনি বলেন, মনিরুল হক চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে সংসদে ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ নিয়ে বক্তব্য রাখলেও এবার তিনি সংসদীয় শালীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের সীমা অতিক্রম করেছেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য হীন মানসিকতা ও বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যতে যেন কোনো সংসদ সদস্য এমন মন্তব্য না করেন, সেটিই আমরা প্রত্যাশা করি।’

জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি রুলিং দিয়ে বলেন, ‘সংসদে কেউ কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না। সবাইকে সংসদের মর্যাদা ও ব্যক্তিগত শালীনতা বজায় রাখতে হবে।’

এরপর স্পিকার মনিরুল হক চৌধুরীকে ৩০২ ধারায় একটি নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তা বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের পক্ষে কথা বলতে চাইলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘একবার কোনো বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার সিদ্ধান্ত হলে তা নিয়ে আর বিতর্ক বা ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে না।’

পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি সংসদীয় বিধির আলোকে মনিরুল হক চৌধুরীকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। জবাবে স্পিকার বলেন, প্রয়োজন হলে যথাসময়ে তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।