হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত করোনারি স্টেন্ট বা হার্টের রিংয়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নতুন করে নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের স্টেন্টের দাম আগের তুলনায় ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ট্যাক্স, ভ্যাট, আমদানি ব্যয়, বিভিন্ন প্রশাসনিক চার্জ, কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় নিয়েই স্টেন্টের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মূল্য পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকায় ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের করোনারি স্টেন্টের আগের ও নতুন অনুমোদিত মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ স্টেন্টের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে, যা হৃদরোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার ফলে স্টেন্ট প্রতিস্থাপন প্রয়োজন এমন রোগীরা আগের তুলনায় কম খরচে চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া নতুন মূল্য তালিকা ঘোষণার পাশাপাশি দেশের সব কার্ডিয়াক চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালের জন্য ৪টি বিশেষ নির্দেশনাও জারি করেছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলো-
১. স্টেন্টসমূহের হালনাগাদ মূল্য তালিকা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট সব হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
২. সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুসরণ করে রিং ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।
৩. স্টেন্টের নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে রোগীকে পৃথক ক্যাশমেমো দিতে হবে।
৪. অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহৃত স্টেন্টের খালি প্যাকেট বাধ্যতামূলকভাবে রোগীকে সরবরাহ করতে হবে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সব কার্ডিয়াক হাসপাতালে হার্টের রিং সরবরাহ এবং তা অনুমোদিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না— তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।
বাজারে বিভিন্ন দামের স্টেন্ট পাওয়া যায়। নতুন তালিকায় সর্বনিম্ন ১৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের স্টেন্টও রয়েছে।
বাংলাদেশে রিং আসে দেশের বাইরে থেকে। সাধারণত ইউরোপ-আমেরিকা থেকে এগুলো আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড থেকে রিং আসে বাংলাদেশে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকেও রিং আমদানি করা হয়।