ববি সংবাদদাতা: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীর ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত চার সাংবাদিক এবং ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে নয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেনের অনুসারী।

ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক হাসান মাহমুদের মারধরের শিকার হয়েছেন ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ। আহনাফ অভিযোগ করেন ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদকের নেতৃত্ব তার ওপরে হামলা করা হয়েছে এবং তার ফোন কেড়ে নেয়া হয়েছে যা এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, প্রেসক্লাবের পেজে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাতের ব্যক্তিগত অশ্লীল ভিডিও পোস্ট করার দায়ে শনিবার রাতে ববি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু উবাইদা এবং সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবনকে নভোথিয়েটারের সামনে ডেকে নেন গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক হাসান মাহমুদ। সেখানে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে তাদের ওপর চড়াও হওয়া হয় এবং বেধড়ক মারধর করা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদলের অন্য কর্মীরা সাংবাদিকদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তারাও হামলার শিকার হন। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রকি আহমেদ, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নাহিদ হাসান এবং ছাত্রদল কর্মী আহনাফ শিকদারসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

আপনার বক্তব্যটি বানান ও বাক্যগঠন ঠিক করে, অভিযোগ হিসেবে নিরপেক্ষ ভাষায় এভাবে উপস্থাপন করা যায়:

আহত ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রাকিব হাসান রকি অভিযোগ করে বলেন, “ছাত্রদলের সভাপতি পরিকল্পিতভাবে এই হামলার নির্দেশনা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ঘটনার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। ওই ঘটনায় আমি আহত হয়েছি। আমি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিই। সভাপতির বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় আমাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,আমার ছোট ভাই, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তারিকুলের ওপরও হামলা করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ক্রীড়া সম্পাদক হাসানকে দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”

আরেক ভুক্তভোগী সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নাহিদ হাসান বলেন, "আমাদের ওপর আচমকা এক বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। পূর্বপরিকল্পিত এই হামলায় দেশি অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ও সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।"

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অভিযুক্ত ক্রীড়া সম্পাদক হাসান মাহমুদ এবিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "আমার সামনেই ছাত্রদলের সহকর্মী আহনাফকে তুলে নিয়ে পিটিয়েছে তথাকথিত জাতীয়বাদী আদর্শের লেবাসধারী হাসান। হাসানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তির প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যাতে তাকে দ্রুত একাডেমিক শাস্তি দেয়, আমরা সেই অনুরোধ জানাবো।

নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত বলেন, আমি দেখেছি, আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় যদি ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা বা ইন্ধনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অপরাধী যে-ই হোক, দলীয় পরিচয় কখনোই অন্যায়ের ঢাল হতে পারে না।