রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাকসু ভবনে ঢুকে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুছ সাকিবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাফিন ও তার দলবলের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও রাবির সাবেক সভাপতি আযিযুর রহমান আযাদ। তার দাবি, এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে রাবি ক্যাম্পাসে আবারও বিচারহীনতার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

ফেসবুক পোস্টে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়, রাকসু ভবনে এই হামলার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে শাফিনের সাথে থাকা ৫ জন পালিয়ে গেলেও ২ জনকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ভেতর ধরে ফেলা হয়। বর্তমানে তাদের একজন প্রক্টর অফিসে এবং অন্যজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

ঘটনার শুরু সম্পর্কে জানা যায়, সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে জোর করে তুলে নিয়ে ছুরির ভয় দেখিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঝামেলা শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থীকে ভয় দেখানোর ঘটনায় ছাত্রদলের ৪ জন কর্মী এবং ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের ছাত্রলীগ কর্মী আনাস জড়িত ছিলেন। এমনকি অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী আনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকেও হুমকি দিয়েছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগী নারীর পক্ষে ৭-৮ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দেওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন দোষীদের কোনো শাস্তি না দিয়েই ছেড়ে দেয়। প্রক্টর ও রাকসু নেতারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

অপরাধীদের শাস্তি দাবি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য রাকসু নেতারা সরব ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এর জের ধরেই অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী আনাসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা শাফিন দলবল নিয়ে রাকসু ভবনে ঢুকে রাকসু নেতাদের ওপর সরাসরি হামলা চালান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে শিবিরের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, প্রশাসন সবকিছু জেনেও একতরফাভাবে ছাত্রদলের অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এতে ক্যাম্পাসে আবারও বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর শেষ দেখে ছাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সাথে রাবি শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।