খুলনার আলোচিত স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৭) হত্যা মামলায় এবার মায়ের পর বাবাও নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। নির্জনার পিতা মো. আলীম হোসেন আকাশ (৪০) রবিবার (১৯ জুলাই) খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মো. আসাদুর জামানের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
কেএমপির খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উক্ত হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডুমুরিয়া উপজেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকা থেকে র্যাব-৬ স্পেশাল কোম্পানি ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর থানার যৌথ আভিযানিক দল আলীম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে খুলনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই রাতে খুলনা সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী নির্জনাকে হত্যা করা হয়। এরপর তার মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানাধীন নিরালা সংলগ্ন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় খুলনা সদর থানার নারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাভলী আক্তার বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য, আলামত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে নিহতের বাবা আলীম হোসেন আকাশের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ।
এর আগে গত ১০ জুলাই নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তিনিও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে নির্জনাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ বস্তাবন্দি করে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রাখেন পিতা আকাশ।