নাটোরের সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া এলাকায় বিআরটিসি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী রমিজুল করিম (৪৮) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের ডাল সড়ক এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রমিজুল করিম সিংড়া উপজেলার কলম পুন্ডরী গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় কলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে সহকর্মী শিক্ষক ও এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক রমিজুল করিম ব্যক্তিগত কাজে নাটোর শহরে এসেছিলেন। কাজ শেষে বিকেলে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি সিংড়ার কলম পুন্ডরী গ্রামে ফিরছিলেন। পথে ডাল সড়ক এলাকায় পৌঁছালে নাটোর থেকে বগুড়াগামী দ্রুতগতির একটি বিআরটিসি বাস তাঁর মোটরসাইকেলটিকে সজোরে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাসের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কিছুটা দূরে ফেলে রাখা দুর্ঘটনাকবলিত বিআরটিসি বাসটি উদ্ধার ও জব্দ করে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও হেলপার গা-ঢাকা দেয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
নাটোরের ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "ঘাতক বিআরটিসি বাসটি জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া চালক ও হেলপারকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।"